কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকার সেতু

কাজে আসছে না দেড় কোটি টাকার সেতু

নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু কোনো কাজেই আসছে না। উপজেলার বজরা ইউনিয়নের দীঘিরজান-বজরা সড়কের মালান সাহেবের বাড়ির সামনে খালের ওপর সেতুটির কাজ শেষ হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় গত চার বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেতুটির কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।

সড়ক বিভাগ বলছে, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত করতে না পারায় এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একপাশে ভাঙাচোরা সড়ক অপর পাশে পানিতে ভরা পুকুর। এর মাঝখানে খালের ওপর তৈরি করা হয়েছে সেতুটি। জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলা থেকে সেনবাগ উপজেলায় চলাচলের পথে পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়দের চাহিদার ভিত্তিতে বজরা ইউনিয়নের চনগাঁও গ্রামের মালান সাহেবের বাড়ির সামনে খালের ওপর এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ১৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থ সেতুটি নির্মাণের প্রায় চার বছর শেষ হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। একেই প্রকল্প ২০২১ সালে ফেব্রুয়ারিতে ১৮০ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সড়কের নতুন করে কাজ চালু করে সোনাইমুড়ি-সেনবাগ সড়ক।

স্থানীয়রা জানান, সেনবাগ উপজেলা থেকে সোনাইমুড়ি উপজেলায় আসার সহজ পথ এ সড়কটি। কিন্তু নতুন ব্রিজের পাশে থাকা পুরাতন ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এবং দুই পাশে কোনো রেলিং না থাকায় প্রতিনিয়ত পারাপারে সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। দিনের বেলায় দেখেশুনে ব্রিজটি পার হতে পারলেও রাতের বেলায় বেশি ঘটছে দুর্ঘটনা। বিকল হচ্ছে যানবাহন, আহত হচ্ছে মানুষ।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ লিটন বলেন, এ সড়কটি মূলত সেনবাগ উপজেলা থেকে সোনাইমুড়ি উপজেলায় আসা-যাওয়া করার সংযোগ সড়ক। আগে এটি ভাঙাচোরা ছিল। গত কয়েক বছর আগে দীঘিরজান থেকে বজরা বাজার পর্যন্ত সড়কটির নতুন করে কাজ করা হয়। আগে গাড়ির চাপ কম থাকলেও সড়ক নতুন করে করার পর গাড়ির চাপ বেড়েছে আগের চেয়ে কয়েক গুণ।

বজরা স্কুলের শিক্ষক মাসুদ জানান, সোনাইমুড়ি-সেনবাগ সড়ক বিভাগের প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করতে ১৮০ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু ব্রিজটির একপাশে পুকুর আরেক পাশে খাল থাকায় কাজে আসছে না কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের সড়ক। পাশের সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শাহজাহান মোল্লা নামের একজন পিকআপচালক বলেন, এ সড়কটি ব্যবহার না করলে আমাদের চৌমুহনী চৌরাস্তা হয়ে সোনাইমুড়ি ও আশপাশের বাজারগুলোতে যেতে হবে। আর চৌমুহনী দিয়ে আসলে ১৫ মিনিটের পথ যানজটের কারণে দুই ঘণ্টায়ও আসা সম্ভব হবে না। বজরা ইউনিয়নের চনগাঁও গ্রামের মালান সাহেবের বাড়ির সামনের ব্রিজটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক করে দ্রুত চালু করে দিলে এ পথে চলা লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবে।

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন বলেন, এ ব্রিজটি দীঘিরজান-বজরা-সেনবাগ সড়কের একটি অংশ ছিল। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সড়কের কিছু অংশের কাজ ও ব্রিজটির সঙ্গে সড়কের সংযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের টাকা পরিশোধের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি চালু করা হবে।

আরও পড়ুন