ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক দাবি করেছেন, বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৮ বছর তিনি পদ বঞ্চনা, বৈষম্য, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে শত প্রতিকূলতা ও নানা বঞ্চনার মধ্যেও জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে এই প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত। জীবনের দীর্ঘ বঞ্চনা, কষ্ট, অপমান আর অপেক্ষার ইতিহাসের বিপরীতে আজকের মুহূর্তটিকে তিনি সুন্দরতম প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় চাকরি জীবনের শুরুতেই মাত্র ১৭ মাসের মাথায় ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সরকার তাকে অব্যাহতি দেয়। এরপর সাড়ে চার বছর অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে তিনি চাকরি ফিরে পান।
শৈশবের স্মৃতিচারণ করে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাদারীপুরের শিবচরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ধানের শীষের মালা পরিয়ে বরণ করার সুযোগ হয়েছিল। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে আরও কয়েকবার জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুনিয়র ক্যাডেট কোর ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা হয়। অনুষ্ঠান শেষে করমর্দন করে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।
ডিআইজি রেজাউল বলেন, সেদিনের অনুভূতি ছিল যেন তিনি বিশ্ব জয় করেছেন। কিন্তু কয়েক মাস পর ৩০ মে সেই বিষাদময় সংবাদ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
