রাজশাহীতে চোর সন্দেহে এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করার ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবক তুষার (১৮) নগরীর কাজলা বিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুজাহিদ ও হৃদয় নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
রবিবার (১০ মে) কাজলা বিলপাড়া এলাকায় তুষারকে গাছে বেঁধে মারধর করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে তাকে ১৪ বার লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করা হচ্ছে।
ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা তুষারকে মারধর শুরু করার আগে একজন মোবাইলে ভিডিও চালু করে বলছেন, ‘চালু করে দিয়েছি।’ এরপরই শুরু হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে তুষার বলতে থাকেন, ‘হৃদয়, হৃদয়, হৃদয় ভাইয়া একটু দাঁড়াও ভাইয়া।’ জবাবে হৃদয় বলেন, ‘আমি দাঁড়ায়ে আছি, লেও (মারো)।’
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, আহত তুষার বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে থানায় এসে তিনি নিজেই ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- আশিক, মাহিন, হৃদয়, মুজাহিদ ও শামীম। মামলায় তুষার অভিযোগ করেছেন, চোর সন্দেহে তাকে এভাবে বর্বরোচিতভাবে পেটানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মামলা দায়েরের পর সোমবার বিকেলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কেউ যদি অপরাধও করে থাকে, তবুও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে এভাবে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই।
এদিকে মতিহার জোনের সহকারী কমিশনার সোহেল রানা জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তারা সবাই একটি চোর সিন্ডিকেটের সদস্য। ছোটখাটো চুরির পর টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়, যার জেরে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
