যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট মানুষ

যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট মানুষ

এপ্রিল মাসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির খরচ বেড়েছে এবং খাদ্যের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মঙ্গলবার শ্রম বিভাগ যে তথ্য দিয়েছে, তাতে দেখা যায় কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) টানা দুইবার বাড়ার ফলে গত তিন বছরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার সবচেয়ে বেশি হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতির কারণে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন অনেক আমেরিকান তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্ট এবং জ্বালানির উচ্চ দামের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তির জন্য অনেকেই তাকে দায়ী করছেন।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা আরও জোরালো হয়েছে যে, ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৭ সাল পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। নেভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং বলেছেন, ‘আর্থিক চাপ সত্যিই বাড়ছে।’ তিনি বলেন, তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম মূল্যস্ফীতি মানুষের সব বেতন বৃদ্ধির সুবিধা খেয়ে ফেলছে। এটি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা এবং তারা সেটা অনুভব করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে, গত মাসে সিপিআই ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে মার্চ মাসে এটি ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদরা আগেই ধারণা করেছিলেন যে সিপিআই ০ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে। বিভিন্ন পূর্বাভাসে এই হার ০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ০ দশমিক ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলা হয়েছিল।

মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। পরে এপ্রিলের শুরুর দিকে যুদ্ধবিরতির পর দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো অনেক বেশি রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব সঙ্গে সঙ্গেই পেট্রোল, ডিজেল ও বিমান জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এর প্রভাব আগামী মাসগুলোতেও ধীরে ধীরে দেখা যাবে।

আরও পড়ুন