ঝিনাইদহে ভাড়া বাসা থেকে নারী হোটেল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহে ভাড়া বাসা থেকে নারী হোটেল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে খুশি খাতুন (২২) নামে এক নারী হোটেল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার পাগলাকানাই এলাকার সায়াদাতিয়া সড়কের একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

খুশি খাতুন সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার আদালতপুর গ্রামের শহিদুল মোড়লের মেয়ে। তিনি কিছুদিন আগে পাগলাকানাই মোড়ে অবস্থিত ‘আন্তরিক হোটেল’ নামে একটি খাবারের হোটেলে কাজ শুরু করেন।

পুলিশ ও ভাড়া বাসায় বসবাসকারীরা জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে শহরের পাগলাকানাই এলাকায় সায়াদাতিয়া সড়কের পাশে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন খুশি খাতুন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হোটেলের কাজ শেষে বাসায় ফেরেন ওই নারী। ওই সময় একজনকে নিজের স্বামী পরিচয় দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন খুশি খাতুন। পরে সকালে বেলা বেড়ে গেলেও খুশি খাতুনের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশী ঘরের বাসিন্দারা তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে বাসার মালিককে ডেকে আনেন অন্য ভাড়াটিয়ারা। পরে বাসার মালিক ও অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরে প্রবেশ করে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে তারা পুলিশে খবর দেয়।

ভাড়া বাসার মালিক বেবি খাতুন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে টিনশেড বাসার একটি রুম ভাড়া নেন খুশি খাতুন। সোহাগ হোসেন নামে এক রিকশাচালককে নিজের স্বামী পরিচয় দিয়ে তারা দুজন এক ঘরে বসবাস করতো। বিয়ের কাগজপত্রের ফটোকপি আমার কাছে জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ সকালে তার ঘরে গিয়ে মরদেহ দেখতে পেলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হোটেলের রান্নাবান্না ও ধোয়া মোছার কাজ শেষে স্বামীকে নিয়ে বাসায় ফেরেন খুশি। তবে আমরা যখন আজ সকালে তার ঘরে গেলাম, তখন দেখলাম ঘরের প্রধান দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগানো। আবার ঘরের পেছন দিকের একটি দরজা আছে, সেটি খোলা দেখতে পেয়েছি। ওই নারীর মরদেহ বিছানায় পড়ে ছিল।’

নিহত খুশি খাতুনের পাশের ঘরের বাসিন্দা বদর উদ্দিন বলেন, ‘ওই নারীর ঘর থেকে মোবাইল ফোনে একাধিক রিংটোন বাজার শব্দ পাই আমরা। পরে ঘর থেকে মানুষের সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিককে ডেকে নিয়ে আসি। পরে ঘরে ঢুকে দেখি মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে।’

পাগলাকানাই মোড়ের ‘আন্তরিক হোটেলের মালিক রফিক আনোয়ার সাবু বলেন, ‘খুশি খাতুন নামের মেয়েটি আমার হোটেলে ১৫ দিন আগে কাজে যুক্ত হয়। এক সপ্তাহ হলো সে ওই ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে বলে জানতে পেরেছি। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হোটেলের কাজ শেষে সে বাসায় চলে যায়। সকালে খবর পেলাম সে নাকি মারা গেছে।’

এদিকে ঘটনার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহফুজ হোসেন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান সহ সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট, পিআইবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ উদ্ধারে তদন্ত চলছে। নিহতের পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদেরকে খবর দেয়া হয়েছে। নিহতের স্বজনরা সাতক্ষীরা থেকে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।’

আরও পড়ুন