উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ চীনা নাগরিকরা জুয়ার ফাঁদে ফেলছে বাংলাদেশিদের

উন্নত প্রযুক্তিতে দক্ষ চীনা নাগরিকরা জুয়ার ফাঁদে ফেলছে বাংলাদেশিদের

রাজধানীর উত্তরা ও তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এদের মধ্যে ৬ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— এম.এ (৩৩), ঝাং জিয়াহাও (২২), লিও জিঞ্জি (৩২), ওয়াং শিবো (২৪), চাং তিয়ানতিয়ান (২৯), জেমস ঝু (৪৩), মো. কাউসার হোসেন (২৪), মো. আব্দুল-কারিম (২৮) ও রোকন উদ্দিন (৪০)।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ডিবি। অনলাইন জুয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে।

গতকাল সকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম নিয়মিত সাইবার মনিটরিংকালে ফেসবুক, ইউটিউব, টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপন, ডিপোজিট বোনাসের প্রলোভন এবং বিকাশ/নগদ ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেনের তথ্য শনাক্ত করে। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল।

এমন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নং সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাউসার, করিম ও রোকনকে এবং তুরাগ থানাধীন রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট এলাকা থেকে চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৩টি ৬৪-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল (ভিওআইপি জিএসএম গেটওয়ে) মেশিন, ১টি ৮-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, ১টি ২৫৬-পোর্ট বিশিষ্ট জিএসএম/জিপিআরএস সিম মডিউল মেশিন, বিভিন্ন অপারেটরের প্রায় ২৮০টি সিম কার্ড, একাধিক ল্যাপটপ, ২০টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন, নগদ প্রায় ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট এবং এনআইডি ও ১টি টয়োটা মাইক্রোবাস।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চক্রটি প্রথমে প্রলোভন দেখিয়ে কিছু লাভ দেবে। পরবর্তীতে নিঃস্ব করে দেবে। এই টাকা নগদ বা বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঢুকছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

অবৈধ সিম বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, কম শিক্ষিত মানুষ সিম কিনতে গেলে তাদের বারবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়, যা তারা বুঝতে পারে না। এভাবে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে চক্রের কাছে বিক্রি করা হয়।

চীনা নাগরিকদের প্রতারণার জন্য বাংলাদেশ বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে চীনা নাগরিকরা অনেক উন্নত। তারা বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের প্রলুব্ধ করছে। আর এখান থেকে প্রতারণার টাকা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রান্সফার করা সহজ।

আরও পড়ুন