মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নৌবাহিনীর জন্য নতুন সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে। নেভাল স্ট্রাইক মিসাইল (এনএসএম) ক্রয় চুক্তি বাতিল হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘এনএসটি অনলাইন, ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে, স্টার অনলাইনসহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম’ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ মূল্যায়নে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। সরকার ইতোমধ্যে মোট চুক্তিমূল্যের প্রায় ৯৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করেছে, যার পরিমাণ ৫০ কোটি রিঙ্গিতেরও বেশি।
মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ খালেদ নোরদিন বলেছেন, “শুধু পরিশোধিত অর্থ ফেরত নয়, চুক্তি ভঙ্গের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তারও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি দুটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এর একটি লিটোরাল কমব্যাট শিপ (এলসিএস) প্রকল্প এবং অন্যটি লেকিউ-শ্রেণির ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজ।”
এর আগে নরওয়ে সরকার এনএসএম ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন বাতিল করে। এর জেরে মালয়েশিয়া কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন ঐক্য সরকারপন্থী মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল।
এদিকে মালয়েশিয়া বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে। দেশটির সরকার স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে কাজ করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কংসবার্গ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস এএস (কেডিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভি এবং কেডিএ’র মধ্যে ২০১৮ সালের এপ্রিলে এনএসএম সংগ্রহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নতুন লিটোরাল কমব্যাট শিপের জন্য এ চুক্তির মূল্য ছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ ইউরো বা প্রায় ৫৭ কোটি ১৯ লাখ রিঙ্গিট। সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এনএসএম ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘপাল্লার সামুদ্রিক হামলায় সক্ষম এবং এর পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি।
