শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে হামলা, ভাঙচুর ও দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ডা. আকরাম এলাহি বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় পালং মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সদর হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাশখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৫০) বুকে ব্যথা নিয়ে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসক দেরিতে এসেছেন এমন অভিযোগ তুলে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা জরুরি বিভাগে হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. নাসির ইসলাম, আনসার সদস্য সোহেল সরদার, কামরুল, আজিজুল হক ও কাউসার আহত হন। গুরুতর আহত ডা. নাসির ইসলামকে পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি চিকিৎসক নাসির ইসলামকে মারতে মারতে জরুরি বিভাগের কক্ষ থেকে বের করে আনছেন। এসময় পুরো হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় সদরের পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকরাম এলাহি। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, সলেমান কাজী ওরফে আল-আমিন (৩০), জসিম কাজী (৪০), আব্দুল জলিল কাজী (৩২), রবিউল কাজী (৩২) ও জায়েদা বেগম (৬০)।
সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন কালের কন্ঠকে বলেন, চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকরাম এলাহি বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম কালের কন্ঠকে বলেন, হামলার ঘটনায় ডা. আকরাম এলাহি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত ছয়জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিতু আক্তার বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই স্বজনরা জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। এতে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহত চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, হাসপাতালে হামলা ও চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং ওই চিকিৎসককে এয়ার এম্বুলেন্সে করে দুপুরে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম বলেন, চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
