এসএসসি পরীক্ষা শেষে মিরসরাইয়ে দুই পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম

এসএসসি পরীক্ষা শেষে মিরসরাইয়ে দুই পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর দুই পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করেছে অন্য পরীক্ষার্থীরা। রোববার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার বারইয়ারহাট কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন— বারইয়ারহাট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের দুই পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান ও মুহাম্মদ মুনায়েম। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত জিহানের শরীরে ১৯ সেলাই ও মুনায়েমের শরীরের ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান, আহত পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহানের বাবা মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে জিহান ও তার বন্ধু মুনায়েম বারইয়ারহাট কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিয়ে বের হয়। একটু পরে বিএম হাসপাতালের সামনে আসামাত্র করেরহাট কামিনী মজমুদার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১২ জন পরীক্ষার্থী তাদের খুর দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরে লোকজন ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়। দুইজনের শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর দাগ রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে আসার সময় ক্ষুর নিয়ে আসে। আমি এ বিষয়ে থানায় মামলা করব।’

আহত শাখাওয়াত হোসেন জিহান বলেন, ‘রোববার আমাদের বিজ্ঞান পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বেরিয়ে সামান্য পথ আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার বন্ধু মুনায়েমকে মারতে থাকে। আমি বাঁচাতে গেলে আমাকেও কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি আর কিছু বলতে পারিনা। গত এক সপ্তাহ ধরে করেরহাট স্কুলের পরীক্ষার্থী রানা, রামিম, তুহিন, মোস্তাফিজ, হাসানসহ কয়েকজন ঝামেলা করছিল।’

বারইয়ারহাট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী সচিব নাছিমা আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে ছিলাম। কোনো ঘটনা শুনিনি। বাইরে কোথাও হয়েছে কি না বলতে পারবো না।’

এ বিষয়ে করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ‘আমাকে বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদা বিষয়টি অবহিত করেছে। আমি তখন এমপি মহোদায়ের সামনে ছিলাম। যে ছেলেগুলো গন্ডগোল করেছে তাদের মধ্যে দুইজনকে চিনেছি। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবো।’

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আপনার কাছে শুনলাম, খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।’

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের সেখানে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন