দেশে শিশু ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং বিচারহীনতার ক্রমবর্ধমান ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আর কত শিশু মরলে রাষ্ট্র জাগবে?’ শিরোনামে আয়োজিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ চাইল্ড প্রোটেকশন ইনিশিয়েটিভ। শনিবার (২৩ মে) বিকেল ৪টায় এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিশুদের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়ে আয়োজকরা বলেন, শিশুর ওপর সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা, সামাজিক নীরবতা এবং বিচারহীনতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক আনন্দ কুটুম বলেন, আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি নারীদের স্পেশাল পার্টস নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে এবং যারা এসব স্লোগান দিয়েছে তাদের অনেকেই এখন সংসদে। নারীদের অশ্লীল গালিগালাজ কখনো রাজনৈতিক স্লোগান হতে পারে না। এসকল কর্মকাণ্ড নারীর প্রতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে যা অনেক অনেক উদ্বেগজনক। এছাড়া শিশু সুরক্ষায় জরুরি জাতীয় পদক্ষেপ, কার্যকর তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান তিনি।
সূচনা বক্তব্যে সংগঠক হো চি মিন ইসলাম বলেন, শিশুর জীবন কোনো পরিসংখ্যান নয়, শিশুর কান্না কোনো ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি জাতির লজ্জা। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক, সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া অন্যান্য বক্তারা বলেন, শিশুদের ওপর ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, এটি আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিচারব্যবস্থার সম্মিলিত ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের সামাজিক আপস, স্থানীয় সালিশ, রাজনৈতিক প্রভাব, অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া বা প্রশাসনিক উদাসীনতা গ্রহণযোগ্য নয়।
মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা, ভিকটিম ও পরিবারের জন্য চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা।
মানববন্ধনের শেষে আয়োজকরা জানান, এটি কেবল এক দিনের প্রতিবাদ নয়; শিশুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি চলমান নাগরিক আন্দোলনের অংশ। শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
