এআই নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কোম্পানিগুলোর কাছে যাওয়ার পরামর্শ ইসরাইলি গবেষকের

এআই নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কোম্পানিগুলোর কাছে যাওয়ার পরামর্শ ইসরাইলি গবেষকের

পুরো পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ বা সামাজিক মাধ্যম ম্যানেজ করার চেষ্টা না করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলি এআই গবেষক ড. মায়া অ্যাকারম্যান। মার্কিন ইহুদি কমিটিকে (এজেসি) তিনি বলেছেন, ইসরাইলপন্থীরা প্রযুক্তিগত ও প্রচারণামূলক সমাধান নিয়ে সরাসরি এআই তৈরি করা কোম্পানিগুলোর কাছে যেতে পারে।

অ্যাকারম্যান জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে ইসরাইল সমর্থকরা সুযোগ হাতছাড়া করার পর এআই এখন ইসরাইলপন্থী প্রচারণার (প্রোপাগান্ডা) জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত টিকটকসহ অন্যান্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর কারণে বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের পক্ষে জনসমর্থনে যে ধস নেমেছে, সেটির দিকেই ইঙ্গিত করেন তিনি।

অ্যাকারম্যান বলেন, এআইয়ের সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো—এটি যেমন আমাদের শত্রুদের জন্য একটি বড় সহযোগী হয়ে উঠতে পারে, তেমনি আমরা যদি শুরুতেই পদক্ষেপ নিই, তবে এটি ঠিক আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগে পরিণত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমের ট্রেন্ড মিস করার পর, এআই এখন তথ্যের প্রধান উৎসে পরিণত হচ্ছে। মানুষ অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে এআই-কে বেশি বিশ্বাস করে। তারা সামাজিক গমাধ্যমের চেয়েও এআই-কে বেশি ভরসা করে। মানুষ এখন গুগলে খোঁজার চেয়ে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো চ্যাটবটের দিকে ঝুঁকছে এবং তরুণ প্রজন্ম খুব, খুব বড় সংখ্যায় গুগলের চেয়ে এই বটগুলো ব্যবহার করছে। তাই এটিই তথ্যের মূল উৎস হয়ে উঠছে।

অ্যাকারম্যান জানান, অনেক ইহুদি এখনো হতাশ, কারণ তারা মনে করে ইন্টারনেট দুনিয়ার উৎসগুলো ইতিমধ্যেই ইসরাইল-বিরোধী বা তথাকথিত ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ পক্ষপাতমূলক তথ্যে ভরা, যা এআই সিস্টেমগুলোও অনুকরণ করতে পারে। তিনি বলেন, আমি যখন এই সুযোগের কথা বলি, তখনো ইহুদিদের হতাশ হতে দেখি। তারা বলে, ‘ওহ, উইকিপিডিয়া তো ইতিমধ্যেই চরম ইহুদি-বিদ্বেষী, সামাজিক মাধ্যমগুলোও তা-ই। তাহলে চেষ্টা করে কী লাভ? এআই তো এই সব তথ্য থেকেই শেখে। তাই আমাদের করার খুব বেশি কিছু নেই।’

তবে এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করে অ্যাকারম্যান যুক্তি দেন, এআই কোম্পানিগুলো এখন কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া ইন্টারনেট ডেটার ওপর ভিত্তি করে উত্তর তৈরি করার চেয়ে ‘অ্যালাইনমেন্ট’ বা নিয়ন্ত্রিত বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের আউটপুট বা ফলাফল নির্ধারণ করে দিচ্ছে। অ্যাকারম্যান বলেন, কিন্তু তা সত্যি নয়। কারণ গত দুই বছর ধরে এআই কোম্পানিগুলো ‘অ্যালাইনমেন্ট’-এর দিকে ঝুঁকছে। ফলে অ্যালগরিদমগুলো ইন্টারনেটে থাকা ডেটাকে হুবহু উপস্থাপন করার বদলে, চ্যাটবট বা টেক্সট-টু-ইমেজ মডেলগুলো এখন ক্রমশ আমাদের সেটাই দেখাচ্ছে, যা কোম্পানিগুলো আমাদের দেখাতে চায়।

এরপরই তিনি এআই ফার্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পথ বাতলে দেন। অ্যাকারম্যান বলেন, তাই এটি এখন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে উঠছে। এর অর্থ হলো—উইকিপিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমের বিশাল দুনিয়ায় কী ঘটছে তা নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানেজ করার চেষ্টা না করে, আমরা সরাসরি কোম্পানিগুলোর কাছে স্পষ্ট প্রযুক্তিগত ও প্রচারণামূলক সমাধান নিয়ে যেতে পারি। ডিজিটাল জগতকে নিজেদের মতো করে সংশোধন করার জন্য প্রথমবারের মতো একটি পথ তৈরি হয়েছে।

অ্যাকারম্যানের এই মন্তব্যকে বিশ্বজুড়ে একটি বড় স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলো এআই-কে বিশ্বজুড়ে তাদের ন্যারেটিভ বা বয়ান নিয়ন্ত্রণের এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। যদিও এই ইসরাইলি বিজ্ঞানী তার কৌশলটিকে ইহুদিদের সঠিক উপস্থাপন এবং ‘ইহুদি-বিদ্বেষ’ মোকাবিলার উপায় হিসেবে দেখিয়েছেন, তবে তার এই মন্তব্য এআই সিস্টেমে ইসরাইল, জায়নবাদ, ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলি নীতির সমালোচনাকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন