গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

এক গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড থেকে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন সারোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি ঢাকার বাড্ডার জোয়ার সাহারা এলাকার গোলাম মাওলার ছেলে।

ওই গ্রাহক এক সময় একটি ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নেন। পরবর্তীতে কার্ডটি তিনি ফেরত দিয়ে দেন। হঠাৎ তিনি জানতে পারেন, তার কার্ডের বিপরীতে বড় অংকের ঋণ রয়েছে। তিনি বিষয়টি লিখিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানালে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে, ব্যাংকটির সাবেক কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন জালিয়াতির মাধ্যমে ওই কার্ডটি ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করে। সারোয়ারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলা নম্বর ৩৫। সিআইডি রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গতকাল বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সারোয়ার ২০১৭ সালে একটি স্বনামধন্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার, কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং পদে কাজ করতেন। সে সময় একজন গ্রাহক একটি ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর আবেদন করেছিলেন। প্রয়োজন না হওয়ায় পরবর্তীতে ওই গ্রাহক কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দিয়ে দেন। তবে সারোয়ার ক্রেডিট কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন এবং ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরবর্তীতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করেন।

সম্প্রতি ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো রিপোর্ট (সিআইবি) থেকে ওই গ্রাহক জানতে পারেন, তার কার্ডটি এখনো সচল। তদন্তে উঠে আসে, সারোয়ার ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। তবে ওই ক্রেডিট কার্ড থেকে লেনদেন অব্যাহত রাখেন। ২০১৭ সালের শেষ থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওই কার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। পরবর্তীতে মোট লেনদেনের বিপরীতে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট লভ্যাংশসহ ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।

সিআইডি জানিয়েছে, সারোয়ারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং এ রকম আরও জালিয়াতির ঘটনায় তিনি জড়িত কি না তা জানার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন