মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি জরুরি: অর্থমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি জরুরি: অর্থমন্ত্রী

দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য র‍্যাব-পুলিশ কিংবা প্রশাসনিক অভিযানের ওপর নির্ভর না করে কার্যকর নীতি এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক অদক্ষতা কমানো প্রয়োজন।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ রয়েছে, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও রয়েছে। ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি এবং অর্থ পাচারের কারণে তহবিলের ব্যয় বেড়ে গেছে, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি জানান, সরকার ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগে এবং এ সময় অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। ব্যাংক ঋণের সুদের হার, পণ্য খালাস ও গন্তব্যে পৌঁছানোর খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ব্যবসার ব্যয় বাড়াচ্ছে।

আর্থিক নিরাপত্তার জন্য জ্বালানি, খাদ্য ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অতীতে তাৎক্ষণিক ক্রয়ের ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যেখানে মূল্যের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা গেলে ব্যয় কমানো সম্ভব।

সরকারি কর্মচারীদের সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি দুর্নীতি কমাতে ভূমিকা রাখবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মানুষের অভাব দুর্নীতির দিকে ঝোঁকার প্রবণতা তৈরি করে। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো প্রায় ১১ বছর ধরে সমন্বয় করা হয়নি, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং অন্যান্য মন্ত্রীগণ। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন।

আরও পড়ুন