যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তিচুক্তি আজ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তিচুক্তি আজ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই

দীর্ঘ একশ’ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ উঠেছে। শান্তির জন্য একটি বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তি আজ স্বাক্ষরিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আজ চুক্তি স্বাক্ষর হবে না, যার ফলে দু’পক্ষের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত করা হয়েছে, কারণ দু’দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেন, চুক্তি আজ স্বাক্ষরিত হবে এবং হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, আজ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হতে পারে। একই কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতার সম্ভাবনা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলছেন।

পাকিস্তান এই আলোচনা প্রসঙ্গে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপন করবে।

আলোচনাধীন নথিতে মোট ১৪টি ধারা রয়েছে, যার মধ্যে ইরানের বন্দরের ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ বন্ধে পারস্পরিক অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত। তবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের প্রধান বিরোধের বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সব পথ বন্ধ করতে হবে, অন্যদিকে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রণালি আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। তবে ইরান বলছে, এটি তাদের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্ভাব্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই একটি সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে, তবে আজ চুক্তি স্বাক্ষর হবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই।

আরও পড়ুন