কুষ্টিয়ায় শূন্যরেখায় ১২ জনের মানবেতর জীবন কাটছে

কুষ্টিয়ায় শূন্যরেখায় ১২ জনের মানবেতর জীবন কাটছে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক পুশইনের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন তিনদিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। গত শুক্রবার ভোরে তাদের ভারত থেকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, পরে তারা ভারতের সীমানা পিলারের ৫০ গজ ভেতরে আটকা পড়েন।

এদিকে, তিনদিন অতিবাহিত হলেও তাদের অনিশ্চিত গন্তব্যের অপেক্ষায় থাকা অবস্থা চলমান। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেকে। শনিবার সকালে দৌলতপুরের বিলগাথুয়া ১৫০/৩ এস সাব পিলার সংলগ্ন এলাকায় ২০ মিনিটের পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১২ জনের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং দেড় বছরের শিশুসহ চারটি শিশু রয়েছে। তারা বর্তমানে শূন্যরেখার কাছে একটি পাটক্ষেতে অবস্থান করছেন। বিজিবি জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রচণ্ড রোদ ও খাদ্য সংকটের কারণে তারা মারাত্মক কষ্টে আছেন। মাথার ওপর কোনো আশ্রয় না থাকায় অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিজিবি জানিয়েছে, বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্তের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা জানান, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই দেশের রাষ্ট্র পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং সমাধানে আলোচনা চলছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, বিএসএফ পুশইন করেছে এবং এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ। মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন