ইসির প্রকল্পে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

ইসির প্রকল্পে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ-২) প্রকল্পের আওতায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনাকাটায় গুরুতর দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু অনিয়ম প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে নগদ টাকা ও দামি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের পর অভিযুক্ত পাঁচজন ঘুষের টাকা ও মোবাইল ফেরত দিয়েছেন এবং কমিশন এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনাকাটা ও এনআইডি তথ্যভান্ডার রক্ষণাবেক্ষণকে কেন্দ্র করে কমিশনে একাধিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা টেন্ডার কারসাজি ও নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ক্রয়ে জড়িত।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আইডিইএ-২ প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, অভিযুক্তদের বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জরুরি ভিত্তিতে আইডিইএ-২ প্রকল্পের আওতায় আইটি যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করা যন্ত্রাংশের মধ্যে অনেকগুলো নিম্নমানের ও অপ্রাপ্ত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্ভারের জন্য ২০০ পিস মাদারবোর্ড সরবরাহের কথা থাকলেও মাত্র ৫৮ পিস পাওয়া গেছে। একইভাবে অন্যান্য যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। তদন্ত কমিটি জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. তারেক রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এছাড়া, জিডি-৫৭ প্যাকেজের আওতায় কল সেন্টারের জন্য নিম্নমানের মালামাল কেনার অভিযোগও রয়েছে, যেখানে সহকারী প্রোগ্রামাররা দামি মোবাইল ফোন ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তদন্তে এসব তথ্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন