ফিলিপাইনের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত ও পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আজ সোমবার এই ঘটনা ঘটে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
পুলিশ লেফটেন্যান্ট ইভালিন দিয়াজ জানান, ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী স্কুলের ভেতর এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। লেইতে প্রদেশের তাকলোবান শহরের স্যান হোসে ন্যাশনাল হাইস্কুলে স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ভিডিও স্থানীয় গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যার সত্যতা যাচাই করেছে এএফপি। ভিডিওতে ভীত শিশুদের চিৎকার ও কান্নার পাশাপাশি থমকে থমকে গুলির শব্দ শোনা যায়। অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণীকক্ষে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে।
পুলিশ কর্মকর্তা ইভালিন জানান, ঘটনার পর দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, বন্দুক হামলার নেপথ্যের কারণ বুলিইং। তবে এখনো সন্দেহভাজন কিশোরদের এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়নি।’
পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বন্দুকগুলো খতিয়ে দেখছি। তারা এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে এবং কীভাবে স্কুলে নিয়ে আসলো, সেটা আমরা নিরীক্ষা করছি।’ তিনি আরও জানান, ‘আমরা এখনো ঘটনাপ্রবাহ সাজাতে পারিনি। যেহেতু তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাদের অভিভাবকের উপস্থিতিতে থানায় রেখেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
পাঁচ আহত শিক্ষার্থীর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি। এর আগে আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
ফিলিপাইনের শিক্ষা দপ্তর একটি বিবৃতির মাধ্যমে ‘উচ্চ মাত্রার সতর্কাবস্থা’ জারি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন। তারা ঘটনাস্থলকে সুরক্ষিত রাখতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।’
ফিলিপাইনের স্কুলগুলোতে বন্দুক হামলার ঘটনা বিরল। তবে স্থানীয় রাজনীতির অঙ্গনে বন্দুক হামলার কথা প্রায়ই শোনা যায়। ২০২২ সালে আতেনেও দে মানিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক মেয়রসহ তিন ব্যক্তি বন্দুক হামলায় নিহত হন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে বন্দুকের বেচা-কেনা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও কালো বাজারে সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র সহজলভ্য।
