ব্যাংকের সুদভিত্তিক লেনদেন থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বা সুদ মসজিদ, মাদরাসা, রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট বা হাসপাতালের মতো সামাজিক খাতে ব্যয় করা যাবে না বলে ইসলামি বিধান অনুযায়ী জানানো হয়েছে। এসব স্থাপনা থেকে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ উপকৃত হয় বিধায় হারাম অর্থ ব্যয় নিষিদ্ধ।
সুদি অর্থের একমাত্র হকদার জাকাতের উপযুক্ত অসহায়, দুস্থ ও গরিব ব্যক্তিরা। শরিয়তের দৃষ্টিতে এই টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া নিজের দায়মুক্তির জন্য তাদের দিতে হবে। মসজিদ আল্লাহর পবিত্র ঘর হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সেখানে হারাম অর্থ ব্যয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘হে লোকেরা! নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র। তিনি কেবল পবিত্র সম্পদই গ্রহণ করে থাকেন।’ (মুসলিম ২২১৮)
মাদরাসার নির্মাণকাজ ও সাধারণ তহবিলে সুদি অর্থ ব্যয় নাজায়েজ হলেও ‘গুরাবা তহবিল’ নামক বিশেষায়িত তহবিলে এই টাকা দান করা যেতে পারে। শর্ত হলো, এই তহবিল থেকে শুধু জাকাতের হকদার গরিব ছাত্রদের ব্যয়ভার বহন করা হবে।
দেশের ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক ও শরিয়াভিত্তিক ইসলামি ব্যাংক—এই দুই ভাগে বিভক্ত। সুদভিত্তিক ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ শরিয়তের দৃষ্টিতে সুদ বলে বিবেচিত, কারণ ব্যাংকে রাখা ডিপোজিট ‘করজ’ বা ঋণ হিসেবে গণ্য হয়। ঋণের ওপর সব অতিরিক্ত অংশই সুদ, যা ইসলামি স্কলারদের মতে দ্বিমতের বিষয় নয়। তাবেয়ি ও তাবে-তাবেয়িদের দিকনির্দেশনায় জানা যায়, ‘যে ঋণ কোনো উপকার বয়ে আনে তা-ই সুদ।’ (ইতহাফুল খিয়ারিতিল মাহারাহ ৩/৩৮০, দায়লামি ৪৭৭৮)
দেশের প্রচলিত শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত মুনাফা বা লভ্যাংশের ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। একদল আলেম একে হালাল মনে করলেও ইসলামি স্কলারদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো কাগজে-কলমে ইসলামি পদ্ধতির দাবি করলেও মাঠে-ময়দানে ইসলামের বিধান পূর্ণ অনুসরণ করে না বা করতে পারে না। তাই ইসলামের বিধি-বিধান প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন করা পর্যন্ত ইসলামি ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত মুনাফা গ্রহণের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য এবং এ ধরনের মুনাফা ভোগ করা অনুচিত বলে মত দিয়েছেন।
