ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মধ্যে ম্যাজিকাল পাওয়ার ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ব্লগার আশীফ এন্তাজ রবি। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রবি বলেন, হাদি তার ঘনিষ্ঠ ছিল এবং বাংলাদেশের প্রতিটি ইমারতের ইট খুলে নেওয়ার ক্ষমতা হাদির ছিল। হাদির মধ্যে সেই ম্যাজিকাল পাওয়ার ছিল, যে মুহূর্তের মধ্যে মন জয় করতে পারতো। একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষের, হাজার হাজার মানুষকে নিমিষে উন্মাদ করে দেওয়ার ক্ষমতা তার ছিল।
তিনি জানান, হাদি জানতো তার হাতে আছে সেই অসীম ক্ষমতা, কিন্তু সে সেই পথে পা দেয়নি। কেননা সে এও জানতো, এই পথের বিপদ আছে এবং সে বিপদ ভোগ করবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। এজন্য হাদি গণতন্ত্র এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পথ বেছে নিয়েছিল।
হাদি গণতান্ত্রিক পথের সবচেয়ে কঠিন আসন ঢাকা-৮-এ দাঁড়িয়েছিল। সে জানতো, এই আসনে নির্বাচিত হওয়া সবচেয়ে কঠিন, তবু সে এ আসন বেছে নিয়েছিল, কেননা সে কঠিনকে ভালোবাসতো। তার প্ল্যান ছিল, জিতবে পারলে ভালো, না জিতলেও ক্ষতি নেই। সবচেয়ে কঠিন ময়দানে সে লড়ে যাবে।
হাদি পলিটিকাল পার্টি না করে, কালচারাল পার্টি করেছিল। কেননা পলিটিক্সে খেলা সহজ, কালচারাল মাঠে খেলতে গেলে লাগে বুদ্ধি, পড়াশোনা এবং জ্ঞান। হাদি এই তিনটি ডোমেইনে লড়তে চেয়েছিল একটাই কারণে- বাংলাদেশ যেন এই তিন ডোমেইনে এগিয়ে যায়।
রবি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা, ভাঙচুর বা গ্যানজাম করা মানে, হাদির সঙ্গে, তার আদর্শের সঙ্গে বেইমানি করা। হাদির আত্মত্যাগকে একটা বিশেষ ফায়দালোভীর হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।
শোনা যাচ্ছে, হাদির আসনে লড়বেন হাদির বোন। রবি বলেন, এটা খুবই ভালো খবর এবং আমাদের উচিত প্রত্যেকটা ভোট হাদির বোনকে দেওয়া। দরকার হলে হাদির সব কয়টা ভাই বোনকে ঢাকায় নির্বাচনে দাঁড় করানো, জেলায় জেলায় ইনকিলাব মঞ্চ তৈরি করা এবং নতুন নতুন পত্রিকা ও মিডিয়া হাউস গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, একমাত্র এটা করলেই হাদিকে আমরা হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখতে পারবো। নয়তো বাংলাদেশ ধাবিত হবে এমন এক গন্তব্যে, যেখান থেকে ফিরে আসার পথ আর থাকবে না। রাজু ভাস্কর্যের মতো, নজরুলের সমাধির মতো, আমাদের মধ্যে কেবল থাকবে হাদির ছবি, ভিডিও আর সমাধি।
হাদিকে সত্যিকার অর্থে বাঁচিয়ে রাখতে হলে, সহিংসতা ও উসকানি পরিহার করে আমাদের গণতান্ত্রিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই করতে হবে। হাদির বোনকে, হাদির ভাইবেরাদরকে নির্বাচিত করে আনতে হবে।
