বিশ্বে প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর মহাকাশ ভ্রমণ

বিশ্বে প্রথম হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীর মহাকাশ ভ্রমণ

প্রথমবারের মতো হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী একজন ব্যক্তি মহাকাশে ভ্রমণ করেছেন। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ কোম্পানি ব্লু অরিজিনের একটি ফ্লাইটে তিনি মহাকাশে যান।

মার্কিন ধনকুবের জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ব্লু অরিজিন শনিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে তাদের নিউ শেপার্ড সাব-অরবিটাল মিশনটি উৎক্ষেপণ করে। প্রায় ১০ মিনিটের এই ফ্লাইটে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মহাকাশসীমা কারমান লাইন অতিক্রম করেন যাত্রীরা।

যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির জার্মান অ্যারোস্পেস ও মেকাট্রনিক্স প্রকৌশলী মাইকেলা বেন্থাউস। একটি মাউন্টেন বাইক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকে তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন।

ব্লু অরিজিন প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য আমাদের পৃথিবী এখনো কতটা অপ্রবেশযোগ্য। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে চাই, তাহলে আমাদের সব ক্ষেত্রেই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে—শুধু পছন্দের জায়গাগুলোতে নয়।

সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই ছোট রকেটটি উৎক্ষেপণের পর আকাশে ক্যাপসুলটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে প্যারাস্যুটের সাহায্যে ধীরে ধীরে টেক্সাসের মরুভূমিতে নিরাপদে অবতরণ করে ক্যাপসুলটি। এটি ছিল ব্লু অরিজিনের ১৬তম মানববাহী ফ্লাইট।

প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরেই নিউ শেপার্ড রকেট ব্যবহার করে মহাকাশ পর্যটন সেবা দিয়ে আসছে। এসব ফ্লাইটের টিকিটের মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত ডজনখানেক মানুষ ব্লু অরিজিনের মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণ করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় পপ গায়িকা কেটি পেরি এবং ‘স্টার ট্রেক’-এ ক্যাপ্টেন কার্ক চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা উইলিয়াম শ্যাটনার। এই ধরনের তারকাবহুল যাত্রীদের মাধ্যমে মহাকাশ পর্যটন নিয়ে জনসাধারণের আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করছে ব্লু অরিজিন।

ভার্জিন গ্যালাকটিকও একই ধরনের সাব-অরবিটাল মহাকাশ ভ্রমণ সেবা দিয়ে থাকে। তবে ব্লু অরিজিনের লক্ষ্য এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের সঙ্গে কক্ষপথভিত্তিক মহাকাশ যাত্রার বাজারে প্রতিযোগিতা করার পরিকল্পনাও করছে।

চলতি বছর ব্লু অরিজিন সফলভাবে তাদের শক্তিশালী নিউ গ্লেন রকেট ব্যবহার করে দুটি মানববিহীন অরবিটাল ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। নিউ গ্লেন রকেটটি নিউ শেপার্ডের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।

আরও পড়ুন