ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মদিন উদযাপনের বিধান ও ইতিহাস

ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মদিন উদযাপনের বিধান ও ইতিহাস

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জন্মদিন উদযাপনের সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হলেও ইসলামে জাঁকজমকপূর্ণ জন্মদিন পালনকে সমর্থন করা হয় না। জন্মদিন উদযাপনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সর্বপ্রথম এটি পালন করত মিসরের ফারাওরা, যারা পৌত্তলিকতায় বিশ্বাসী ছিল। পৌত্তলিকদের এই সংস্কৃতি পরবর্তীতে ইহুদি-খ্রিষ্টানরা গ্রহণ করে, যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে জন্মদিন উদযাপনকে হারাম বলা হয়েছে, কারণ এটি বিজাতিদের সাদৃশ্য অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিজাতিদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ (আবু দাউদ : ৪০৩১)। এছাড়া জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর রীতির পেছনে মুশরিকদের অন্ধ বিশ্বাস রয়েছে, যা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।

জন্মদিন উদযাপনকে জাদুবিদ্যার সংস্কৃতি হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়, যা শয়তানের ধর্মে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হিসেবে বিবেচিত। শয়তানের উপাসকদের লেখা The Satanic Bible বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘শয়তানের ধর্মে সবচেয়ে বড় উৎসব হলো নিজের জন্মদিনের উৎসব।’ ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এই ধরনের উৎসব থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজা রাখা, দান-সাদকাহ করা ও নফল ইবাদতে মগ্ন থাকা উচিত।

কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে, ‘রাসুল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (আল হাশর-৭)। তাই জন্মদিন কেন্দ্র করে উপহার দেওয়ার পরিবর্তে ভালো কাজে উৎসাহিত করার জন্য উপহার দেওয়া যেতে পারে, যেমন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা একে অন্যকে উপহার দাও। কেননা উপহার মনের বিদ্বেষ দূর করে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর ৯২৫০)।

লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার বিভাগের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন