যশোরের ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মধ্যে একটি আসন জোটের শরিককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপি প্রথমে মনোনয়ন দেয় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে। পরে সেখানে মনোনয়ন দেওয়া হয় শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর উপজেলা ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পান দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব। কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন দলের অভয়নগর উপজেলা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পান দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। পরে জোটের শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন পান দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। কিন্তু তাকে পরিবর্তন করে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ও উপজেলা কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে সাবিরা সুলতানা মুন্নী এবং যশোর-৩ (সদর) আসনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রয়েছেন। বাদ পড়া মফিকুল হাসান তৃপ্তি এক মাসের বেশি সময় ধরে প্রচারণা চালিয়েছেন, তবে প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
তবে, নুরুজ্জামানের পক্ষের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে জনসংযোগে নেমে পড়েছেন। মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেছেন, “নেতাকর্মী-সমর্থকদের বলেছি শান্ত থাকতে।”
দলীয় সূত্র জানায়, যশোর-৪ আসনে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব মূল প্রার্থী, মতিয়ার রহমান ফারাজী ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে রাখা হয়েছে। তিনি ২৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
মতিয়ার রহমান ফারাজী জানান, প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি এলাকাবাসীর মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব চার ব্যাংকে ঋণখেলাপি।”
যশোর-৬ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন আবুল হোসেন আজাদ। ২৪ ডিসেম্বর রাতে মনোনয়নপত্র তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ গত দেড় মাস ধরে প্রচারণা চালিয়েছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, “মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত আমাদের সবাইকে মানতে হবে।”
