চরম অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের জেরে ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও বুরুজের্দ, আরসানজান ও গিলান-এ-ঘার্বের মতো শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছে।
এই গণবিক্ষোভকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোসেনি দাবি করেছেন, এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোপন ইন্ধন রয়েছে। তার মতে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তারা বিদেশি শক্তির স্বার্থ হাসিল করছে এবং তাদের ক্ষমা করা হবে না।
সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই জানা গেছে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে সরকার পরিবার প্রতি মাসিক মাত্র ৭ ডলারের একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। তবে বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে এই সাহায্য মৌলিক খাদ্যসামগ্রীর ঘাটতি মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে।
গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের দোকানদারদের ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও এটি এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসীর হাত কেটে দেওয়া হবে। তিনি জানান, ইরানের সামরিক যুদ্ধের প্রস্তুতি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।
যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার মুখে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জনগণের মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, শত্রুর যত চাপই থাকুক না কেন, ইরান কখনোই হাল ছাড়বে না।
মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও বহিঃশক্তির চাপের মধ্যে ইরান এখন এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে।
