চিত্রনায়ক ওমর সানীর রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এক গ্রাহককে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘চাপওয়ালার শ্বশুর বাড়ি বাংলা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট’-এ এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রেস্টুরেন্ট কর্মী লিখনের সঙ্গে কাস্টমারের খাবার পরিবেশন নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের ভাষ্য, কিছু নারী ক্রেতার সঙ্গে লিখন অশোভন আচরণ করেন। আহত মো. আতিকুর রহমান খান সেদিন কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে গিয়েছিলেন।
আতিকুর রহমান লিখনের অশোভন আচরণের প্রতিবাদ করলে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষ রেস্টুরেন্টের বাইরে মূল সড়কের দিকে চলে যান। সেখানেই ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আতিকুর রহমান আহত হন।
এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির চাচা মো. খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আহত মো. আতিকুর রহমান খান বর্তমানে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পর মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ওমর সানী জানান, মূলত নানরুটি পরিবেশন নিয়ে অসন্তোষ থেকেই কর্মী লিখনের সঙ্গে এক গ্রাহকের তর্কের শুরু। সেই তর্ক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে নারী ক্রেতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ওই কর্মী।
পরবর্তীতে বিষয়টি রেস্টুরেন্টের বাইরে গিয়ে মারামারিতে রূপ নেয়, সেখানেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। নানরুটি প্রস্তুতকারক কারিগরের অভাবে স্থানীয় এক ব্যক্তির পরামর্শে লিখনকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, একজন কর্মচারীর এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রাহকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার গুরুতর অন্যায় এবং এর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
