রমজান মাস শুরু হতে না হতেই রাজধানীর ফলের বাজারে দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে খেজুর, আনার, আঙুর, আপেলসহ বিভিন্ন ফলের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ।
শুক্রবার সকালে খিলগাঁও তালতলা বাজার ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেডজুল খেজুর প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, মরিয়ম খেজুর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা, কালমী ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, সুকারী ৮০০ টাকা এবং মিনিফী খেজুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আনার প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৬২০ টাকা, কালো আঙুর ৬০০ টাকা এবং সবুজ আঙুর ৪৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া গ্রিন আপেল ও ড্রাগন ফল ৪২০ টাকা, ফুজি আপেল ও নাশপাতি ৪০০ টাকা, কমলা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা এবং মালটা ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের ফলের মধ্যে পেঁপে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, বরই ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, পেয়ারা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং বেল ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
দেশি ফলের সরবরাহ থাকলেও রমজান উপলক্ষ্যে এগুলোর দামও আগের তুলনায় বেড়েছে বলে ক্রেতারা জানান। ডজনপ্রতি সবরী ও সাগর কলা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা এবং চম্পা কলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা শাহনাজ পারভিন বলেন, ‘এই মাসের শুরুতে গ্রিন আপেল কিনেছি ৩২০ টাকায়, আজ চাচ্ছে ৪২০ টাকা। রোজা আসলে ব্যবসায়ীরা সব সময় এমন করে।’ অন্য ক্রেতা আশিকুর রহমান জানান, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সবুজ আঙুরের দাম ৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪৬০ টাকা হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।
তালতলা মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী আব্দুর জালিল জানান, তারা বাদামতলী পাইকারি আড়ত থেকে ফল কেনেন। সেখানে একেক সময় একেক দামে ফল কিনতে হয়। তিনি বলেন, ‘পাইকারিতে যেমন দামে কিনি, সীমিত লাভে তেমন দামেই বিক্রি করি। অনেক সময় ফলের নিচে নষ্ট বের হয়, সেই লোকসানও আমাদের গুনতে হয়।’
অন্য বিক্রেতারা জানান, আমদানি খরচ বৃদ্ধি এবং রমজানে বাড়তি চাহিদাই মূলত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে। কাঁচাপণ্য বিক্রি করা খুব কঠিন। একেক দিন একেক দাম থাকে।
