রমজান শুরুর পর ক্রেতার চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারে খেজুরের দাম কমতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের চাহিদার শীর্ষে থাকা বস্তা ও জাহিদী খেজুরের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
রোজার তৃতীয় দিন শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খেজুরের দোকানগুলোতে আগের দিনগুলোর মতো ভিড় নেই। অনেক দোকানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো বিক্রি হয়নি বলে জানা গেছে। অনেকে চাহিদা বিবেচনায় সীমিত মুনাফায় পণ্য বিক্রি করছেন।
বাজারে সবচেয়ে কম দামি বস্তা খেজুর এখন কেজি প্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা প্রথম দুই রমজানে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা ছিল। জাহিদী খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে, আগে যা ৩৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ভালো মানের জাহিদী খেজুর ৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা একদিন আগে ৫০০ টাকা ছিল।
মানিকনগরের আজাদ ফ্রুটস অ্যান্ড কনফেকশনারির স্বত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুই কেজি খেজুর বিক্রি করেছি। মহল্লার দোকানে কম দামি খেজুরের চাহিদা বেশি। দামও গত তিন-চারদিনের তুলনায় কিছুটা কম। তবুও সকাল থেকে বেচা-বিক্রি নেই বললেই চলে।
অন্যান্য খেজুরের দামও তুলনামূলক কমেছে। সুরমা খেজুর কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, বরই ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ছড়া খেজুর ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং দাবাস ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সুদাই ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, কালমি মরিয়ম ও মাবরুম মরিয়ম ৮৫০ থেকে ৯০০, সুকারি ৯২০ থেকে ৯৫০, আজওয়া ৯৫০ থেকে ১০০০, ইরানি মরিয়ম ১২০০ থেকে ১৪০০ এবং প্রিমিয়াম মেডজুল ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে খেজুরের চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন, যার মধ্যে রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি খেজুর মজুত রয়েছে।
