দেশের ঋণের বোঝা ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি

দেশের ঋণের বোঝা ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি

দেশের অর্থনীতি রেকর্ড দেশি-বিদেশি ঋণের চাপে পড়েছে। সব মিলিয়ে ঋণের পাহাড় এখন প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকার উপরে। দায় পরিশোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, অনেক ধরনের ঋণ আমরা করেছি, যেটা আসলে যৌক্তিকভাবে আমাদের যে রির্টান দেওয়ার কথা সেটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেটা মেগা প্রকল্প হোক, কিংবা বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো খাতের প্রকল্প, আবার সামাজিক খাতের প্রকল্পের জন্যও সেটা কিন্তু সত্য।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে ঋণের এই গ্রাফ রকেট গতিতে উপরে উঠেছে। ২০০৯ সালে যখন শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন সরকারের ঋণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। আর ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময় তা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ কোটির ঘরে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, জনগণের জন্য সরকারের ব্যয় করার ক্ষমতা কমে যায়; কারণ ঋণের কিস্তি শোধ করতে গেলে যে টাকা চলে যায়, ওইটা শোধ করতে না হলে তো জনগণের জন্য এই কাজগুলো করতে পারতো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবকিছুতে বেশি করতে পারতো।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এক অর্থবছরে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সরকার বলছে, এই ঋণ উন্নয়ন নয়, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ক্ষত সারাতে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া শোধ আর রিজার্ভের পতন ঠেকাতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে নিতে হয়েছে বাজেট সহায়তা।

ড. আব্দুল মজিদ বলেন, বলে যাচ্ছে যে অর্থনীতিতে টাকা আছে। কিন্তু ট্যাক্স নেওয়া হচ্ছে না; নেওয়া হচ্ছে না বা দিচ্ছে না। এইসব জায়গায় খুব স্বচ্ছ-কঠোর পদক্ষেপ থাকতে হবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ৬৫ হাজার কোটি টাকা। রফতানি আয়েও নেই সুখবর। একদিকে ঋণের কিস্তির চাপ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের উপর বাড়ছে করের বোঝা। মূল্যস্ফীতির চাপ তো আছেই।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বললেন, বাংলাদেশের কস্ট অব বরোয়িং বেড়েছে। আগে যে ঋণগুলো বাংলাদেশ ছাড়মূলক রেটে পেত, এখন সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে এখন বানিজ্যিকে আসছে। সেই ঋণগুলো অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের এখন মিক্সড এপ্রোচে নিতে হচ্ছে, সেই বিচারে সাম্প্রতিককালে এমন অনেক ঋণ করা হয়েছে, সেই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের আরও সর্তক হওয়া দরকার।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ডেট সাসটেইনিবিলিটি রিপোর্টে বাংলাদেশ আগে ‘লো’ ক্যাটাগরিতে ছিল, এখন বলা হচ্ছে ‘মডারেট’।

আরও পড়ুন