অর্থমন্ত্রীর কাছে পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে

অর্থমন্ত্রীর কাছে পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানের সুপারিশ চাওয়া হয়েছে

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কাছে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ তালিকা জমা দিতে বলেছেন। মন্ত্রী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা ও সুপারিশসহ এ তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন।

বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ গতকাল (বুধবার) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান ও অন্যান্য পরিচালকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিজিএমইএ বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় ও পদ্ধতি সহজীকরণে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে। সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থ সংকটে রয়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিজিএমইএ নেতারা বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড়ের পাশাপাশি প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও গতিশীল করতে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান।

বৈঠকে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না। তিনি বলেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল পেলে কারখানা সচল হবে এবং ব্যাংকও তার পাওনা ফেরত পাবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবের সঙ্গেও একমত পোষণ করেন।

বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজীকরণ ও পরিচালনার ব্যয় কমানো এখন সময়ের দাবি। তারা কাস্টমস, বন্দর ও অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ জানান।

অর্থমন্ত্রী বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেন যে, তারা এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো সমাধানের কার্যকর উপায় সংবলিত একটি সুপারিশমালা জমা দেবেন। বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি বাস্তবধর্মী ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করবেন।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড উল্লেখ করে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন