বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল মজুদকারী দেশ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। একই সাথে মার্কিন বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও গত এক মাসে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানে হামলার ইঙ্গিত পাওয়ার পর বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যেকোনো মুহূর্তে এই সংঘাত শুরু হতে পারে। ইরান কেবল তেল উৎপাদনকারী দেশ নয়, বরং তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণকারী দেশ। এই পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হলে তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি আরও তীব্র ও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়বে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কিছুটা কমায় যে বৈশ্বিক স্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা এই উত্তেজনার ফলে মুহূর্তেই ধুলিসাৎ হতে পারে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ আশাবাদী যে, সরাসরি হামলা এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তাদের মতে, সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে ইরানও বসে থাকবে না এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলো দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ধরনের অস্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা ডেকে আনতে পারে।
