নিজ দেশে হামলার মধ্যে এশিয়ান কাপ খেলতে যাচ্ছে ইরান

নিজ দেশে হামলার মধ্যে এশিয়ান কাপ খেলতে যাচ্ছে ইরান

নিজ দেশে হামলার মধ্যে এশিয়ান কাপের লড়াইয়ে নামছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাঝে অস্ট্রেলিয়ায় ওমেন্স এশিয়ান কাপে অংশ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে ইরান নারী ফুটবল দল। ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানি দলকে ‘পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের খবর এসেছে। এর কয়েক দিন আগেই ২৬ সদস্যের ইরানি দল গোল্ড কোস্টে পৌঁছায়। তাদের সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার কথা রয়েছে।

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই কঠিন পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এএফসি-র কাছে সকল খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা প্রধান অগ্রাধিকার। গোল্ড কোস্টে থাকা ইরান নারী দল ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং তাদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

রবিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ইরানের কোচ মারজিয়েহ জাফরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এড়িয়ে কেবল ফুটবল নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট ইরানি নারীদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় একটি সুযোগ।’

জাফরি জানান, ‘ইরানে লিগ শেষ করে আমরা তিনটি প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছি। অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর আমাদের অনুশীলন সেশনগুলোও বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি আগামীকাল আমরা ভালো একটি ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

রবিবার শুরু হওয়া ১২ দলের এই টুর্নামেন্ট ইরানি নারী ফুটবলারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ২০২২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে তাদের অভিষেক হয়েছিল। সেবার চীন ও তাইওয়ানের কাছে তারা বড় ব্যবধানে হারলেও দেশে বীরোচিত সংবর্ধনা পেয়েছিলেন।

২০২৬ আসরের গ্রুপটি বেশ কঠিন উল্লেখ করে কোচ বলেন, ‘২০২২ সালে গ্রুপটি কিছুটা সহজ ছিল। এবার আমরা অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছি, তবে গ্রুপটি চ্যালেঞ্জিং। আমাদের গ্রুপে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনও রয়েছে। তবে আমরা আমাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে চাই।’

বাছাইপর্বে শক্তিশালী জর্ডানকে হারিয়ে মূল আসরে জায়গা করে নেওয়া ইরান এবার সরাসরি বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে। দলের ৩৩ বছর বয়সী অধিনায়ক জহরা ঘানবারি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে অনেক শক্তিশালী দল আছে, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া। লড়াইটা কঠিন হবে জানি, তবে মানসিকভাবে আমরা দৃঢ় আছি।’

এশিয়ান কাপের শীর্ষ ছয়টি দল ২০২৭ সালে ব্রাজিলে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন