বগুড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের

বগুড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের

বগুড়ার ধুনট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবুল মুনছুর আহম্মেদ পাশার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা দীপ্তি এবং ছেলে নাফিস ফয়সাল আকাশকেও আসামি করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নাছিমা খাতুন নামে এক নারী ধুনট থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

বাদী নাছিমা খাতুন উল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা চপল মাহমুদের স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামীর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দেবেন না জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে চপল মাহমুদ ধুনট শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবুল মুনছুর আহম্মেদ পাশা, তার স্ত্রী ও ছেলে তার গতিরোধ করেন এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চপল মাহমুদকে মারধর করা হয় এবং তার ব্যাগের প্রায় ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

নাছিমা খাতুন অভিযোগ জানানোর পর প্রথমে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে নির্যাতিত পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। স্থানীয়দের চাপের মুখে রাতে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

অভিযুক্ত ভিপি আবুল মুনছুর আহম্মেদ পাশা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পূর্ব বিরোধের কারণে তার ছেলের সঙ্গে চপল মাহমুদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, চপল মাহমুদই প্রথমে তার ছেলেকে মারধর করেন এবং এটি রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা।

ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ আলম বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুই পরিবারের বাড়ি পাশাপাশি এবং ক্যারম খেলা নিয়ে তরুণদের মধ্যে বিরোধের জেরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এখন পর্যন্ত মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন