গতকাল ইরানে এক দিনে ১২০০ বোমা ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদেরকে এই হামলায় সমর্থন দিয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের বিমানবাহিনী সম্মিলিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যবস্তু করে এক হাজার ২০০ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা জানান, আকাশপথে আধিপত্য স্থাপন করার ফলে যৌথ বাহিনী সহজেই ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে পারবে। হামলার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে থারাল্লাহ সদরদপ্তর, যেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের আটক রেখে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে সর্বশেষ যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী আকাশপথে আধিপত্য স্থাপনে সফল হয়নি। তবে সম্প্রতি ইরানের আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সহজেই হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় হামলা শুরু হয়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০০ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। শনিবার রাতে আইডিএফ জানায়, ২০০টি যুদ্ধবিমান ৫০০ লক্ষ্যে আঘাত হেনেছে, যা ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমানহামলার ঘটনা।
প্রথম দুই দফা হামলায় অসংখ্য রাডার ও বিমানবিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়।
ইরানে ড্রোন ও অন্যান্য আকাশযান যাতে ইসরায়েলের আকাশ সীমা অতিক্রম করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা কোম এলাকার একটি স্থাপনাতে বিমানহামলা চালিয়েছে, যেখানে হাজারো কেজি বিস্ফোরক ছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, তারা ইরানে অন্তত ৯০০ লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়েছে।
