ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরপরই ইরান দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে রয়েছে একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্রের ভান্ডার, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ। এই সংঘাত পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ইরান ও এর আঞ্চলিক সহযোগী বাহিনীগুলোর অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার ইরানের হাতে রয়েছে। যদিও কিছু অস্ত্রের প্রযুক্তি পুরোনো, তবে ইরানের কাছে অনেক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে, যা বহু দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
কাছাকাছি লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত আঘাত হানার জন্য ইরানের হাতে ১৫০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেমন ফতেহ ভেরিয়েন্টের ‘জুলফিকার’, ‘কিয়াম-১’ এবং ‘শাহাব-১/২’। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির হত্যার পর ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে হামলায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল।
দেড় থেকে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুদ্ধে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ‘শাহাব-৩’, ‘ইমাদ’, ‘গদর-১’, ‘খোররামশহর’ এবং ‘সেজ্জিল’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েল ছাড়াও কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে সলিড ফুয়েল ‘সেজ্জিল’ দ্রুত মোতায়েনের উপযোগী হওয়ায় এটি ইরানের পাল্টা হামলার একটি প্রধান হাতিয়ার।
ইরানের হাতে ‘সুমার’, ‘ইয়া-আলি’, ‘কুদস’, ‘পাভেহ’ এবং ‘রাদ’-এর মতো ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। আড়াই হাজার কিলোমিটার পাল্লার ‘সুমার’ ক্ষেপণাস্ত্র মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম। ইরানের সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোনগুলো প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে মিসাইল হামলা চালানোর জন্য পরিচিত একটি কৌশল।
ইরান বছরের পর বছর ধরে মাটির নিচে সুরঙ্গ তৈরি করে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার গড়ে তুলেছে, যা ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখেও মাটির নিচের এই সুরক্ষিত ঘাঁটি থেকে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা হামলা চালিয়ে যেতে পারবে।
ইরানের হাতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নেভাল মাইন ও ড্রোন রয়েছে, যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানো সম্ভব। ইরান দাবি করেছে, তাদের হাতে ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক মিসাইল রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন। ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সংশ্লিষ্ট তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি।
