ইরানের স্কুলে হামলায় মার্কিন বাহিনী দায়ী বলে ধারণা তদন্তকারীদের

ইরানের স্কুলে হামলায় মার্কিন বাহিনী দায়ী বলে ধারণা তদন্তকারীদের

ইরানের মিনাব শহরের মেয়েদের প্রাইমারি স্কুলে হামলায় মার্কিন বাহিনী দায়ী বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তদন্তকারীরা। তবে তারা জানান, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, কে হামলার নির্দেশ দিয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র কেন স্কুলটিকে লক্ষ্যবস্তু করল, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার স্বীকার করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘নতুন কোনো প্রমাণ সামনে এলে যুক্তরাষ্ট্র দায়মুক্তও হতে পারে এবং অন্য কোনো পক্ষ দায়ী বলে প্রমাণিত হতে পারে।’

এই হামলা সংঘটিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রথম দিনেই। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি জানান, হামলায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।’

হোয়াইট হাউস সরাসরি তদন্ত নিয়ে মন্তব্য না করলেও প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘যুদ্ধ বিভাগ বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র নয়।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়ই কোনো স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না।’

একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ভৌগোলিক এলাকা ও লক্ষ্যবস্তু অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর মঙ্গলবার হামলার বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, ‘যে বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে, তদন্তের দায় তাদেরই।’

মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত মেয়েদের জানাজা ও দাফনের দৃশ্য সম্প্রচারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। যদি এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন