ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় (৪ দিন) যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৭০ কোটি ডলারে (প্রায় ৪৫ হাজার ২৫১ কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে।
আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে প্রতি দিনে গড়ে ৮৯১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। সিএসআইএস উল্লেখ করেছে, বড় ধরনের বিমান বা নৌ-অভিযানের শুরুর দিকটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়, কারণ শত্রুপক্ষের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে উন্নত ও উচ্চমূল্যের সমরাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়।
পেন্টাগন আশা করছে, যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে কম মূল্যের গোলাবারুদ ব্যবহারের ফলে দৈনিক খরচ কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে বর্তমান খরচের এই হার মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, এই বিশাল অংকের অননুমোদিত ব্যয় মেটাতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত জরুরি তহবিলের জন্য আবেদন করতে হতে পারে। বর্তমান বাজেট থেকে অর্থ কাটছাঁট করে যুদ্ধের খরচ চালানো রাজনৈতিক ও অপারেশনালভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
বিশেষভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যখন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে, তখন দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির মারণাস্ত্র, স্টিলথ ফাইটার জেটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপগুলোর পরিচালনা ব্যয়ই এর প্রধান কারণ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের এই আর্থিক বোঝা মার্কিন অর্থনীতির অন্যান্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
