চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক) আহসান হাবিব পলাশ জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি এখন পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সোমবার ভোর থেকে ৩ হাজার ৫৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সমন্বয়ে সেখানে বড় আকারের অভিযান শুরু হয়েছে।
এই অভিযানে ৫ শতাধিক সেনা সদস্যের পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন, আনসার ও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। অভিযানের পূর্বে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং বায়েজিদ ফৌজদারহাট লিংক রোড বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া, এলাকার ভিতরে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং আশেপাশে সেনাবাহিনীর সাজোয়া যান অবস্থান নিয়েছে।
ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এবং জানান, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি খাস জমিগুলো দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে। তারা শতকোটি টাকা আয় করে এবং নিজেদের নামে জাল খতিয়ান তৈরি করে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ এবং পুলিশও সেখানে ঢুকতে ভয় পেতো। প্রশাসন এখানে পাঁচবার প্রবেশের চেষ্টা করলেও আগের চারবার ব্যর্থ হয়। এবার যৌথভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এই এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এখানে যাতায়াতের রাস্তা উন্নত করতে বিভাগের কমিশনারকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। অভিযান চলাকালে অস্ত্র উদ্ধার এবং ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন বলেন, পূর্বে বিভিন্ন বাঁধার কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে এই অভিযানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের উন্নয়নের পথ খুলে গেছে। তিনি জানান, নির্বাচনের কারণে অভিযান স্থগিত রাখতে হয়েছে, কিন্তু নির্বাচনের পর সরকার এখানে পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।
