চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের রায় ও অপমান সহ্য করতে না পেরে ১৯ বছর বয়সী মাসুম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের মিজি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। রাত প্রায় সাড়ে নয়টায় থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার মাসুমকে মারধর করা হয় এবং রোববার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বারবার মারধর ও হুমকি দেয়া হয়েছিল। সালিশে অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে।’
মাসুমের খালা সুমি বেগম অভিযোগ করেন, ‘এটি আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
অভিযোগকারী পক্ষে নয়ন পাটওয়ারী জানান, শুক্রবার রাতে তাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয় এবং পরে জানা যায় মাসুম ও আল-আমিন হাঁসগুলো বিক্রি করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাঁস চুরির অভিযোগের পর সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা হয়।’
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
