যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের ডলার বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় ডলার লেনদেন করছে বেশি দামে।
ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার প্রায় স্থির ছিল। কিন্তু মার্চে আসার পর ধীরে ধীরে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে, যার প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক অবস্থান।
এই পরিস্থিতি ২০২২-২৩ সালের টাকার অবমূল্যায়নের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। তখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্যের দাম বেড়েছিল এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমে যাচ্ছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় আছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বলেন, ‘ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যাংক সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৬৯ পয়সা। সোমবার ছিল ১২২ টাকা ৪৯ পয়সা এবং রবিবার ১২২ টাকা ৪৩ পয়সা।
চট্টগ্রামভিত্তিক একটি শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, ‘বাস্তবে এখনও ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়নি। তবে কিছু ব্যাংক কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে।’ তিনি জানান, আমদানি ঋণপত্র খোলার সময় কিছু ব্যাংক প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা পর্যন্ত চাইছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় এবং কিনেছে ১২১ টাকা ৬০ পয়সায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আর বাজারে হস্তক্ষেপ করছে না। এর ফলে টাকার মান কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, যা আমদানি ব্যয় বাড়াতে পারে এবং আগামীতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার কেনাও বন্ধ রেখেছে।
অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশ ব্যাংককে জ্বালানি আমদানির জন্য রিজার্ভের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজতে পরামর্শ দিয়েছেন। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘যদি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক মাসের বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে পারে।’
