ইরান যুদ্ধ: কেন তেহরানের পাশে নেই মস্কো?

ইরান যুদ্ধ: কেন তেহরানের পাশে নেই মস্কো?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ষষ্ঠ দিনে রাশিয়া এই ঘটনাকে ‘জাতিসংঘের একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে সশস্ত্র আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু হওয়ার পরপরই এ প্রতিবাদ জানান।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতা থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন কেন মস্কো তেহরানের পাশে নেই। আজারবাইজানভিত্তিক রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ নিকিতা স্মাজিন জানান, মস্কো ও তেহরান বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রকল্পে সহযোগিতা করছে, যার মধ্যে উত্তর-দক্ষিণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যতম। এই প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

ইরান রাশিয়ার জন্য ‘শাহেদ ড্রোন’ সরবরাহ করেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। সেন্টার ফর নেভাল অ্যানালাইসেসের বিশ্লেষক জুলিয়ান ওয়ালার বলেন, ইরান রাশিয়াকে গোয়েন্দা তথ্য প্রদান করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

তবে রুশ রাজনীতিকরা ইরানকে পছন্দ করেন না, এবং আদর্শগতভাবে তাদের মধ্যে মিল নেই। বিশ্লেষক মোজতাবা হাশেমি জানান, তেহরান রাশিয়ার কাছ থেকে দৃশ্যমান সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তা প্রত্যাশা করেছিল, যা তারা পায়নি।

চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক গ্রেগোয়ের রুস বলেন, ইরানে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রাশিয়ার জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে। যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি তেহরানের দিকে কেন্দ্রীভূত হবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কূটনীতিক ও সামরিক সমর্থন বজায় রাখা কঠিন হবে।

রাশিয়া ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায়, কারণ উভয় দেশের সম্পর্ক পশ্চিমের সঙ্গে খারাপ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরানের বর্তমান শাসকরা রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী থাকবে।

আরও পড়ুন