‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি না হয়’

‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি না হয়’

ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নতি না হয়। এবিপি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি তো রোজ সকালে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি— যে পরিস্থিতি ইউনুসের সময়ে ছিল, সেটাই যেন থাকে, সম্পর্কের উন্নতি যেন না হয়।”

সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত থেকে ‘রাতের অন্ধকারে’ কীভাবে বাংলাদেশে ‘পুশ-ব্যাক’ করা হয়, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। বিশ্বশর্মা বলেন, “বিএসএফ কী করে, কখনো ২০-৩০ বা ৪০ দিন, কখনো ১০ দিন মতো নিজেদের কাছে রেখে দেয় (যাদের পুশ-ব্যাক করা হবে, তাদের)। যখন বিডিআর থাকে না, সেখান দিয়ে ধাক্কা মেরে পাঠিয়ে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভাল লাগে যখন ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাল থাকে না, কারণ যখন সম্পর্ক ভাল হয়ে যায়, তখন ভারত সরকারও চায় না পুশ-ব্যাক করতে। তাই আসামের মানুষের ভাল লাগে যখন ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে একটা বৈরী সম্পর্ক থাকে।” সাংবাদিক মেঘা প্রসাদ মন্তব্য করেন, “এটা তো ভারত-বিরোধী কথা হয়ে যাচ্ছে।” জবাবে বিশ্বশর্মা বলেন, “আপনি প্রশ্ন করেছেন, আমি বলেছি, আমার মনের কথা।”

পুশ-ব্যাক পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজনও বাংলাদেশিকে পুশ-ব্যাক করা সহজ নয়। সীমান্তে বাংলাদেশের বাহিনী থাকে। তারা গ্রহণ করে না। ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে কোনো বন্দি বিনিময় চুক্তিও নেই।” তিনি বলেন, “আমরা কী করি – অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে, যেখানে বিডিআর নেই, সেখান দিয়ে পুশ-ব্যাক করে দিই।”

তিনি ১৯৫০ সালের ‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ’ আইনের কথা উল্লেখ করেন, যা দিয়ে পুশ-ব্যাক করা হচ্ছে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, এই আইন দিয়ে পুশ-ব্যাক করা যায় না। গৌহাটি হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজ রশিদ চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “বিদেশি ট্রাইব্যুনালগুলোকে এড়িয়ে এক্সিকিউটিভ অর্ডার দিয়ে মানুষগুলোকে এখান থেকে পুশ-ব্যাক করার চেষ্টা করছে সরকার। এটা করা যায় না।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্য এমন এক সময় এল যখন দিল্লি ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত পাঠিয়ে সম্পর্ক উন্নত করতে চাইছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা পেশাদার কূটনীতিকের বদলে রাজনীতিবিদ নিয়োগের ঘটনা।

আরও পড়ুন