বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়; এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি। এই পদে থাকা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
তিনি উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর জনগণ কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল এবং যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। তবে নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের নিয়োগ সেই প্রত্যাশার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো, যার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল নিয়োগের অল্প সময় আগে। তিনি বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও ছিলেন।
তিনি সতর্ক করেছেন যে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগের ফলে মেধা ও যোগ্যতা উপেক্ষিত হচ্ছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা নষ্ট করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, একজন যিনি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে একটি পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন।
সবশেষে, মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত দিতে পারে।
