ময়মনসিংহে বিএনপির তিন আসন হারানোর পেছনে বিদ্রোহী প্রভাব

ময়মনসিংহে বিএনপির তিন আসন হারানোর পেছনে বিদ্রোহী প্রভাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। তবে দলীয় বিদ্রোহীর কারণে বাকি তিনটি আসনে পরাজিত হয়েছে দলটি। নির্বাচন পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দলছুট নেতাদের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের ফলেই এই পরাজয় ঘটেছে বলে দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটাররা।

জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য আব্দুস সাত্তারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে একটি দলছুট মহলের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে তিনটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী ভোট বিশ্লেষণ বলছে, পরাজিত আসনগুলোতে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কমপক্ষে আরও দুইটি আসন দখলে আসতে পারত।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আতিকুল বাশার রুমিত দাবি করেন, দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দলছুট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৬৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২৬ ভোট। এ হিসাবে বিএনপির দুই প্রার্থী এক হলে মোট ভোট হতো ২ লাখ ১০ হাজার ১৯১ ভোট, যা বিরোধী জোটের সঙ্গে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬৯ ভোটের ব্যবধান তৈরি করত।

ময়মনসিংহ-২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৮ ভোট, আর বিদ্রোহী সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ার পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৮৭৪ ভোট। বিদ্রোহী না থাকলে বিএনপির ভোটের ব্যবধান হতে পারত ২১ হাজার ১১০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৬ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন ৭৭ হাজার ৩২৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আখতার সুলতানা ফুটবল পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৩৩১ ভোট, আর বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯৯৪ ভোট। এ হিসেবেও বিদ্রোহী না থাকলে বিএনপির মোট ভোট হতো ১ লাখ ২ হাজার ৩২৫ ভোট।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ বলেন, দলের বিদ্রোহী ধানের শীষের পরাজয়ের একমাত্র কারণ। কেন্দ্রের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রোকনুজ্জামান সরকার রোকন বলেন, দলীয় প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পেছনের দুর্বলতাগুলো তদন্ত করে সাংগঠনিক রিপোর্টে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হবে।

আরও পড়ুন