ইরান হরমুজ প্রণালিকে মাসের পর মাস ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ করে রাখতে পারে বলে সামরিক গোয়েন্দারা সতর্কতা দিয়েছেন। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় বিপর্যস্ত ইরান, তবে দেশটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করতে সক্ষম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজারের বেশি ড্রোন মার্কিন মিত্র দেশগুলোর দিকে ছোড়ে, যেগুলোর বেশিরভাগ আকাশে ধ্বংস হলেও কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনফরমেশন রেজিলেন্স জানিয়েছে, ইরান মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে; ইসরায়েলের দাবি ২ হাজার ৫০০, অন্যদের মতে সংখ্যা ৬ হাজারের কাছাকাছি।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান ও ওমানের মাঝে হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সরু অঞ্চলটি বন্ধ করার লক্ষ্য তেহরানের অন্যতম। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানিদের হামলার পর জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা অপরিশোধিত ব্রেন্ট তেলের দাম ১২ শতাংশ এবং ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের প্রধান বব ম্যাকন্যালি বলেছেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চাচ্ছে না, বরং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে রাখতে চায়।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকারের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে ইরানের সমরাস্ত্র ধ্বংস করা প্রধান লক্ষ্য।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ফুরিয়ে গেলে তারা জল-মাইন ব্যবহার করতে পারে, যাদের কাছে ৫ থেকে ৬ হাজারের মতো মাইন রয়েছে বলে জানা গেছে।
