পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা নয়

পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা নয়

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক নিরাপত্তা উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। আইসিডিডিআর,বি-র অ্যাডসার্চ প্রকল্পের এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জরিপ অনুযায়ী, এ শিল্পে প্রায় ৪৩ লাখ শ্রমিক কাজ করেন, যাদের অর্ধেকের বেশি নারী। তবে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকলেও তারা ঘর ও কর্মস্থল উভয় জায়গাতেই সহিংসতার শিকার হন।

গবেষণায় ঢাকার কড়াইল, মিরপুর ও টঙ্গীর বস্তিতে বসবাসরত ১৫-২৭ বছর বয়সী ৭৭৮ জন বিবাহিত নারী শ্রমিক অংশ নেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, প্রতি তিনজনে দুইজনের বিয়ে ১৮ বছরের আগে হয়েছে এবং ৬৫ শতাংশ ১৮ বছরের আগেই প্রথম গর্ভধারণ করেছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের হারও বেশি। প্রতি তিনজনে একজন নারী অন্তত একবার অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের মুখোমুখি হয়েছেন এবং এক-চতুর্থাংশের মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, শিক্ষিত ও বাল্যবিবাহ এড়ানো নারীদের মধ্যে কিশোরী গর্ভধারণের ঝুঁকি কম। প্রথম গর্ভধারণের আগে চাকরিতে যোগ দেওয়াও ঝুঁকি কমায়। তবে স্বামীর সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে কিশোরী গর্ভধারণের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ বেশি।

গবেষণার শুরুতে ৪৮ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে মানসিক সহিংসতার কথা জানান, যা দুই বছর পর বেড়ে ৫৫ শতাংশে দাঁড়ায়। সহিংসতার শিকার নারীরা প্রায় কেউই আনুষ্ঠানিক সাহায্য চাননি; মাত্র ২১ শতাংশ পরিবার বা বন্ধুর কাছে সহায়তা চেয়েছেন।

গবেষকরা বলছেন, নারী ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক—যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, মতামত প্রকাশ ও চলাচলের স্বাধীনতা—সহিংসতা কমাতে ভূমিকা রাখে। শুধু আয়ের সুযোগ তৈরি হলেই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; প্রয়োজন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, সামাজিক সম্মান ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ।

সমাধানের জন্য কর্মক্ষেত্রভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও কাউন্সেলিং সেবা সহজলভ্য করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। পাশাপাশি নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও পুরুষদের অন্তর্ভুক্ত করে আচরণগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন