জুন মাস প্রায় শেষ, কিন্তু এখনো মে মাসের বেতন পাননি দেশের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার প্রায় দুই লাখ শিক্ষক-কর্মচারী। দীর্ঘসূত্রতায় অনেকে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সেই সঙ্গে বেতনের খোঁজে প্রতিদিনই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় এসেছে।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, ‘ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার’ (ইএফটি)–সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বেতন-ভাতা বিতরণ বিলম্বিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রকৃত কারণ অর্থসংকট। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বকেয়া বেতন ছাড় হওয়ার সম্ভাবনা কম হওয়ায়, আগামী অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে মে ও জুন— দুই মাসের বেতন একসঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার আগেই মে মাসের বেতন প্রস্তুত করা হলেও সময়মতো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। পরে জুনে প্রস্তাব পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা অনুমোদন দেয়নি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনের জন্য প্রয়োজন পাঁচশ ১১ কোটি টাকা, অথচ ফান্ডে রয়েছে মাত্র ৮৬ কোটি টাকা।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে বেতন খাতে পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজনীয় অর্থ মেলেনি। একই সময়ে ১৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ, বেতন–ভাতা, ইনসেনটিভ, বাসাভাড়া ও স্বাস্থ্য ভাতা বৃদ্ধির কারণে ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় অর্থ বিভাগের কাছে প্রায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার জন্য একাধিক ডিও লেটার পাঠানো হলেও অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদে রংপুর–৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নুরুল আমীন বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষকদের দুর্ভোগের কথা বলেন।
এর জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া ইএফটি প্রকল্প এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শুরুতে প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় এখন প্রায় ৮০ কোটিতে পৌঁছেছে। পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষকের বেতন পরিকল্পনায় ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে থাকা প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ জুলাইয়ে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে আট হাজার দুইশ ২৯টি। এর মধ্যে দাখিল পাঁচ হাজার সাতশ ৬৭টি, আলিম এক হাজার দুইশ ৮৫টি, ফাজিল নয়শ ৯৩টি এবং কামিল একশ ৮৪টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ ৯১ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন।
