ডাকাতির পর অটোরিকশা চালককে খুন

ডাকাতির পর অটোরিকশা চালককে খুন

প্রায় ৬ বছর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় ডাকাতির পর মুকুল হোসেন ওরফে চকলেট নামে এক অটোরিকশা চালককে খুনের দায়ে পাঁচ ডাকাতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এ বি এম আশফাক-উল হক এ রায় ঘোষণা করেন। আসামিরা হলেন-ডাকাত দলের নেতা সোহেল ওরফে জুয়েল, শাহিন হাওলাদার, সুমন ওরফে আল আমিন, কবির, ফেরদৌস ওরফে বারেক ওরফে ভাতিজা।

সাজার তথ্য নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবু সেলিম চৌধুরী বলেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে শাহিন ও ফেরদৌসকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

তবে অলি আহম্মেদ, শাহ জাহান মুন্সী, কবির, হাসান হাওলাদার ও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মুকুল হোসেন। প্রতিদিনের ন্যায় ২০২০ সালের ২৭ জুন কেরানীগঞ্জের আটি পাঁচদানা করিম হাজী গ্রাম থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হন। তবে রাত ৯টা, ১০টা বেজে গেলেও বাসায় ফেরেননি তিনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাত দেড়টার দিকে অটোরিকশা মালিক মুকুলের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সে যে অটোরিকশা চালায় সেটি মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় একটি গ্যারেজে পড়ে আছে। গ্যারেজে সাড়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে রিকশাটি নিয়ে আসে পরিবার। তবে মুকুলকে তারা খুঁজে পাননি। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টা দিকে কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা টু রাজবাড়ি গামী রাস্তার বার্তা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে মুকুলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মুকুলের ছোট ভাই আবু হানিফ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে গিয়ে ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আসামিদের মধ্যে সোহেল, শাহিন, সুমন, কবির ও ফেরদৌস হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তারা মুকুলকে অটোরিকশা ছিনতাই করে তাকে খুন করার কথা স্বীকার করে।

মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর ১০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ঢাকা জেলার পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন