পাচারের টাকা ফেরাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

পাচারের টাকা ফেরাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

বিগত সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অনিয়ম এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক পাচার করা অর্থ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে এবং একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও কার্যকরী অগ্রগতি দেখা যায়নি।

শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে উদ্যোগ নিলেও পরে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে। বর্তমানে ৬টি শিল্প গ্রুপের পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে ৩৬টি নন-ডিসক্লোজার চুক্তি সই করেছে এসব ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এ বিষয়ে আন্তরিক। নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু ডকুমেন্টস আদান-প্রদান চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকের মালিকরাই অর্থ পাচারের সাথে জড়িত থাকায় এ অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, যারা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তারা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এজন্য পলিটিক্যাল কমিটমেন্টের প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংক পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থ ফেরতের ব্যাপারে আশাবাদী। নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দেশের আইনে মামলা দায়ের করতে হয় এবং আন্তর্জাতিক আদালতে রায় আনতে হয়। নতুন করে অর্থপাচার প্রতিরোধে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো এখন অধিক সতর্ক বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন