তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়া হয়। জামিন আদেশে দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর তা বদলে ফেলা হয়। বদলে ফেলা আদেশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নতুন মামলা নম্বর ও থানা নাম বসানো হয়। পরে তা কারাগারে দাখিল করা হয়। ওই জামিন আদেশের ভিত্তিতেই কারাগার থেকে বেরিয়ে যান চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিনের’ ২০ হাজার পোশাক জব্দের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার আসামি সাহেদুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রামের ‘রিংভো অ্যাপারেলসের’ মালিক।
সাত মাস আগে উচ্চ আদালতে তথ্য গোপন ও জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ পায় চলতি সপ্তাহে। মামলার আরেক আসামি উচ্চ আদালতে জামিন নিতে এসে ওই আসামির জামিন প্রাপ্তির উদাহরণ টেনে আনলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর চাঞ্চল্যকর এই জামিন জালিয়াতির ঘটনা সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নজরে আনেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্তে রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে বুধবার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসন সূত্র বলছে, এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত কিনা, তারও তদন্ত হচ্ছে। আইনজীবীরা বলছেন, এত বড় জালিয়াতি বেঞ্চ কর্মকর্তা বা শাখার কর্মকর্তা ছাড়া সম্ভব নয়। ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নইলে জামিন জালিয়াতি চক্র পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব হবে না।
২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় রিংভো অ্যাপারেলসের গুদাম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের’ (কেএনএফ) সদস্যদের জন্য তৈরি ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দায়ের করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা। মামলায় রিংভো অ্যাপারেলসের মালিক সাহেদুল ইসলাম (২৫) ছাড়াও পোশাক প্রস্তুতের ক্রয়াদেশ দেওয়া গোলাম আজম (৪১) ও নিয়াজ হায়দারকে (৩৯) আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুই কোটি টাকা দিয়ে মংহলাসিন মারমা এবং কুকি-চিনের সদস্যদের কাছ থেকে গত মার্চ মাসে পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া হয়। রিংভো অ্যাপারেলসের প্রডাকশন ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামানকে পোশাক জব্দের সাক্ষী রাখা হয়।
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে এই সশস্ত্র সংগঠনের অস্তিত্ব সামনে আসে ২০২২ সালের শুরুর দিকে। বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, খুমি ও ম্রোদের নিয়ে সংগঠনটি গঠিত হলেও বম জনগোষ্ঠীর কিছু লোক রয়েছে। সে কারণে পাহাড়ে এটি ‘বম পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়।
