মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের শ্রীবাউর এলাকার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলচণ্ডী বাজার বর্তমানে জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ২০০ বছরের পুরনো এই বাজার একসময় ছিল কেনাবেচার কেন্দ্র, কিন্তু এখন সেখানে গুটিকয়েক দোকান ছাড়া আর কিছুই নেই।
জমিদার যতীন্দ্র মোহন কর ২০০ বছর আগে বাজারটির পত্তন করেন, যা প্রথমে ‘বাবুর বাজার’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার পুকুর খননের সময় স্থানীয়রা একটি মূর্তি পেয়ে ‘মঙ্গলচণ্ডী বাজার’ নামকরণ করে। বাজারটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মিফতাউল ইসলাম জানান, তখনকার দিনে মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মাইল পাড়ি দিয়ে বাজারে আসতো। বর্তমানে প্রতি শুক্রবার মঙ্গলচণ্ডী বাজারে হাট বসে, তবে সেখানে আগত বিক্রেতাদের সংখ্যা অত্যন্ত কম।
বাজারের দৃশ্য এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিকেলের দিকে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চালার দোকান এবং খালি ফাঁকা জায়গাগুলো নিস্তব্ধ পড়ে আছে। বর্তমানে বাজারে মাত্র সাতটি স্থায়ী দোকান কার্যকর আছে, যার মধ্যে একটি ওষুধের দোকান, একটি চায়ের দোকান এবং দুটি মুদি দোকান অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় পান বিক্রেতা জহির আহমেদ বলেন, এক সময় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শাকসবজি নিয়ে আসতেন, কিন্তু বর্তমানে বাজারের প্রাণচাঞ্চল্যতা হারিয়ে গেছে। মৃত্যুঞ্জয় রায় জানান, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া, হাওরে মাছের অভাব এবং উন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে স্থানীয়রা শহরের দিকে ঝুঁকছেন।
২০২১ সালে বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব উদ্যোগ ফলপ্রসূ হয়নি। জিলদু মিয়া বলেন, বাজারটি কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ফের চালু হলেও একাধিক দোকান বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলচণ্ডী বাজারের পতন বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের পরিবর্তনের একটি প্রতীক। গ্রামীণ সংস্কৃতির ভাঙন ও শহুরে জীবনের প্রসারের কারণে ঐতিহ্যবাহী বাজারটি বর্তমানে বিলীন হয়ে যেতে বসেছে।
