সরকার মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন সহ্য করবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। সরকারের খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে ফটোকার্ডে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি আর একটা প্রতিষ্ঠান করার মধ্যে গুরুতর পার্থক্য আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি, সাংবাদিকতা সাংবাদিকতাই যেন হয়। আমরা যথেষ্ট খোলা মনে আপনাদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে চাই। সরকারের সমালোচনা করার অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এই দেশে এত বড়, এত জটিলতা…একটু পেছনের কথা বলতে হবে, শেখ হাসিনা এই দেশটাকে এত বাজেভাবে রেখে গেছেন, এই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও সমালোচনার জায়গা তৈরি করছে।’
জাহেদ আরও বলেন, ‘আমরা আসলে এটা নিয়ে শক্ত অবস্থানে যাব। আমরা ডিসইনফরমেশন বেসড ফটোকার্ড অ্যালাও করব না।’ এ সময় তিনি জ্বালানি তেলের মজুত ও আমদানির তথ্য তুলে ধরেন। ২৭ এপ্রিল ডিজেল মজুত ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৪ টন, অকটেন ৪৪ হাজার ৪৮৩ টন, পেট্রোল ১৯ হাজার ৩ টন, ফার্নেস অয়েল ৩৭ হাজার ৯৬ টন এবং জেট ফুয়েল ২১ হাজার ২৩৫ টন।
আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন ও ২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, যোগ করেন তিনি। পাম্পে ভিড় যথেষ্ট কমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে অভিযান চলছে। যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি মানুষ তার ঘরে মজুত করছেন। সবাই যে ব্যবসার জন্য করছেন তা না, আমি ব্যক্তিগতভাবেও দুএকজনকে চিনি, যারা এই শঙ্কা বোধ করেন, আদৌ কখনো তেল পাব কি না! তারা তেল নিজের জন্যই সংরক্ষণ করছেন। বিশেষ করে যারা বাইকার আছেন।’
‘বিশেষ করে যারা রাইড শেয়ারিং করেন, তারা খুবই শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এটা করেন না। তাদের দুশ্চিন্তা আমরা বুঝতে পারি। একইসঙ্গে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেটাও সংকট তৈরি করেছে। আমরা আশা করি এটা ঠিক হয়ে যাবে,’ বলেন তিনি।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাহেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গি আছে। কিন্তু এখানে দুটি এক্সট্রিম আছে। আগের সরকারের সময় জঙ্গি সমস্যাকে যে স্কেলে দেখানো হয়েছে, এটা তাদের ক্ষমতায় থাকার একটা ন্যারেটিভ হিসেবে তারা ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছেন যে, বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি নেই। এটাও ভুল কথা। বাংলাদেশে একটা পর্যায়ে জঙ্গিবাদ ছিল, আছে। সেটাকে আমরা মোকাবিলা করতে চাই। দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা খেয়াল করেছি, এই প্রবণতার মানুষদের অনেক বেশি সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এই সরকার এগুলো মোকাবিলা করবে। আমরা এটাকে একেবারে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি।
